মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ওয়েবে ঝুঁকছেন নিশো

নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র দুটি নাটকে অভিনয় করেছেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। একটি কাজল আরেফিন অমির ‘দ্য কিডন্যাপার’, অন্যটি মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘লাফ’। এর মধ্যে ভালোবাসা দিবসে প্রচারিত হয়েছে ‘লাফ’। ঈদের আগে আরেকটি, বড়জোর দুটি নাটকে অভিনয়ের প্ল্যান রয়েছে নিশোর। তবে আগে শ্যুটিং করা কিছু নাটক প্রচার হতে পারে। মাসে ২০-২৫দিন শ্যুটিং করা নিশো হুট কওে এতো কম কাজ করার কারণ কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত বছর ঈদের আগেও তো করোনা থেকে আমরা সেভাবে পরিত্রাণ পাইনি, অনেক কিছু বিবেচনায় তখন কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। করোনার প্রকোপ কমে আসার পর ব্যাক টু ব্যাক তিনটি ওয়েব সিরিজ করলাম ‘রেডরাম’, ‘সিন্ডিকেট’ ও ‘কাইজার’। এগুলো করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় দিতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সিরিজের শ্যুটিং শুরুর আগে নির্মাতা ও পুরো টিমের সঙ্গে কয়েক দফায় বসেছি। গল্প ও চরিত্র নিয়ে গবেষণা, চরিত্র রূপায়ণের জন্য সময় লাগে। তা ছাড়া সিরিজের জন্য নিজের একটি লুক তৈরি করে সেটি নাটকে এক্সপোজ করতে চাইনি। ওয়েব সিরিজে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে, এখানে একটু বেশি সময় দেওয়া উচিত। নইলে পুরো প্রজেক্ট এবং নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রতি অবিচার হবে।’

নাটকের সংখ্যাটি সচেতনভাবেই কমিয়েছেন এই অভিনেতা। বললেন, ‘নাটকে তো আমরা তিন দিনে শ্যুটিং শেষ করে ফেলি। এখানে কোনো রিহার্সাল নেই, এমনকি টিমের সঙ্গে দুই ঘণ্টা বসার সুযোগও পাই না। নাটকের সেটে গিয়েই যত শলা-পরামর্শ। ওয়েবে নির্মাতারা শিল্পীদের নিয়ে যত্ন করে কাজটি করতে চান। ওখানে তাই একটু সময় বেশি দিচ্ছি বা বলা যায় দিতে চাচ্ছি।’

গেল কয়েক বছরে ঈদের নাটকের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা নিশো। নাটকের সংখ্যাটি এভাবে কমিয়ে নেওয়ায় নিশোর কাছের অনেক নির্মাতা কিছুটা মনক্ষুণœ হয়েছেন। সেটা জানেন নিশোও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওয়েবের কাজগুলো একটির পর একটি হাতে নিয়েছি। এ জন্য প্রেসারটি বেশি। একটি সিরিজের শ্যুটিংয়েই ২০-২৫ দিনের মতো লাগে। তারপর ওই চরিত্র থেকে বের হতেও সময় লাগে। মিনিমাম ১০ দিনের একটি বিরতি নিতেই হয়। আবার এর মধ্যে আগে চুক্তিবদ্ধ হওয়া কিছু এনডোরসমেন্টের কাজও করতে হয়। এ সবের মধ্যেও নাটক যে একেবারেই করতে চাই না তা নয়। ভালোবাসা দিবসের তিনটি নাটক করার ইচ্ছে ছিল। বৃষ্টি ও আনুষঙ্গিক কিছু কারণে মিজানুর রহমান আরিয়ানের নাটকটি করতেই ছয় দিন লেগে গেল। এরপর অন্য নাটকগুলো আর করা হয়ে ওঠেনি।’ নিশো মনে করেন, ‘শিল্পীদের প্রতিটি পদে পদে একটি রেসের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় সিস্টেম। কার হাতে কত বেশি কাজ? কোয়ালিটির চেয়ে সংখ্যা তখন বড় হয়ে ওঠে। যারা নাটক বানাচ্ছেন বা চ্যানেল থেকেও একটি চাপ আসে, ওমুক শিল্পীকেই লাগবে। অনেক সময় চরিত্র গোছানোর জন্য যে সময়টি দরকার সেটি আমরা পাই না। আমরা চলে যাই রেসের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করেই যাচ্ছি। আমরা কী করছি, একটি কাজের প্রস্তুতির সময়টি দিনকে দিন কমাচ্ছি। যখন দেড় লাখ টাকা বাজেটের নাটক হতো, সেই সময় তো কাজ ছেড়ে দিইনি। সেই নাটকের বাজেট এখন দশ লাখের ওপরে। এটিও কিন্তু আমরা তৈরি করতে পেরেছি। এটি ব্যবসাভিত্তিক শিল্প। যখন প্রডিউসার ব্যবসা পাচ্ছেন, তখন তিনি আরও অর্থ লগ্নি করছেন। এভাবেই বাজেট বেড়েছে। আমরা বাজেট থেকে শুরু করে কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাহলেই হয়তো অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সাহস করবেন অনেকে। প্যাশনের পাশাপাশি আমাদের প্রফেশনালি ভাবতে হবে। এখন টিভির পাশাপাশি ইউটিউব বা অন্য প্ল্যাটফরমে দর্শক নাটক দেখছে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাংলা ভাষাভাষী থাকুক না কেন, তারা নাটক দেখছেন। এখানেই আমাদের সার্থকতা। শুরুতে একটি প্রেসারের কথা বলেছি, তার মানে এটি নয়, নাটক আর করতে চাই না। আসলে আমি চাইলেও করতে পারছি না।’

হইচইয়ের ‘কাইজার’-এর শ্যুটিং শেষ করেছেন। সামনে চলচ্চিত্রেও দেখা যেতে পারে তাকে। ঈদের পর আরও চমক নিয়ে হাজির হবেন নিশো। নাটকও করবেন, তবে সংখ্যাটি ক্রমেই কমতে থাকবে। নিশো বলেন, “কোনো চরিত্রের প্রতি অবিচার করতে চাই না। ধরুন একটি চরিত্র এলো, যেখানে আমি আর্মি। কিন্তু আমাকে আর্মির মতো ফিট লাগছে না। পেয়েছি বলেই কাজটি করে ফেলব? এত দিন অভিনয় করে এমনভাবে কোনো চরিত্র নষ্ট করলে সেটি তো নিজের কাছেই খারাপ লাগবে। ‘রেডরাম’-এ সিআইডি অফিসার ছিলাম। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সিনিয়র একজন অফিসার প্রশংসা করে আমাকে বলেছেন, ‘আমরা আসলে এমনই। আমরা ধুম করে কোনো কাজ করি না। আমরা সময় নিয়ে যতটি সম্ভব অবজারভ করার চেষ্টা করি। জানি না কতটি চরিত্রে মতো হতে পেরেছি। তবে যখন এমন প্রশংসা পাই তখন অনেক কিছু ছেড়ে পথটি ভিন্ন করতেই হয়।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com